Friday, May 1, 2026

আরোগ্যের পথে যাত্রা: ডা. রাজীব আনন্দের তত্ত্বাবধানে সলোমন নাইকামার মেরুদণ্ড চিকিৎসার সাফল্য

ফিজি-র ৪২ বছর বয়সী বাসিন্দা সলোমন নাইকামা প্রায় চার বছর ধরে মেরুদণ্ড-সংক্রান্ত গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন। পিঠের নিচের অংশে মৃদু ব্যথা দিয়ে যে সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে তাঁর পায়ে অসাড়তা, চলাফেরায় অসুবিধা এবং ঘন ঘন পেশি দুর্বলতার মতো গুরুতর উপসর্গে রূপ নেয়।

সৌদি আরবে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে, যা তাঁর পেশাগত ও ব্যক্তিগত—উভয় জীবনকেই ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ওষুধ ও থেরাপি গ্রহণ করেও তিনি খুব একটা সুফল পাননি। নিজের স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষমতা ফিরে পেতে এবং যন্ত্রণামুক্ত জীবন যাপন করতে বদ্ধপরিকর হয়ে সলোমন বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বিকল্পগুলো খুঁজতে শুরু করেন—আর ঠিক তখনই ভারতে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক নতুন যাত্রার সূচনা হয়।

আপনি কীভাবে প্রথম ডা. রাজীব আনন্দের সম্পর্কে জানতে পারলেন? 

আমি প্রথম দেখা পেলাম ডাঃ রাজীব আনন্দ — দিল্লির বিএলকে হাসপাতালের সেরা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ। আমি রোগীদের পর্যালোচনা এবং সাফল্যের কাহিনিগুলো পড়ছিলাম, আর বারবারই তাঁর নাম উঠে আসছিল। আমি একজন চিকিৎসা সমন্বয়কারীর সাথেও কথা বলেছিলাম, যিনি তাঁর ব্যাপারে অত্যন্ত জোরালো সুপারিশ করেছিলেন। বিষয়টি আমাকে বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরভাবে খোঁজখবর নেওয়ার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল।

মেরুদণ্ডের চিকিৎসার জন্য সৌদি আরব থেকে ভারতে আসতে আপনাকে কী অনুপ্রাণিত করেছিল?

সত্যি বলতে, এটি ছিল বেশ কয়েকটি বিষয়ের সম্মিলিত ফলাফল:

  • ভারতে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা
  • অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
  • অন্যান্য দেশের তুলনায় সাশ্রয়ী চিকিৎসা ব্যয়
  • রোগীদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার বিবরণ (Testimonials)

আমার কাছে ভারতকে গুণমান ও ব্যয়ের এক সঠিক ভারসাম্যের জায়গা বলে মনে হয়েছিল। বহু বছরের মধ্যে এই প্রথম আমি আশার আলো দেখতে পেলাম।

নিজের দেশে থাকাকালীন আপনি কী ধরনের চিকিৎসা বা ওষুধ সেবন করে দেখেছিলেন?

ভারতে আসার আগে আমি যেসব চিকিৎসা গ্রহণ করেছিলাম, তা হলো:

  • ব্যথানাশক ও প্রদাহ-বিরোধী ওষুধ
  • ফিজিওথেরাপি সেশন
  • জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন

দুর্ভাগ্যবশত, এর কোনোটিই আমাকে দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তি দিতে পারেনি। আমার উপসর্গগুলো বারবার ফিরে আসছিল এবং সময়ের সাথে সাথে সেগুলোর তীব্রতা বরং আরও বেড়ে গিয়েছিল।

আপনার শারীরিক অবস্থার কারণে আপনি মূলত কী কী উপসর্গ বা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন?

আমার প্রাত্যহিক জীবন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমি যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলাম, তা হলো:

  • কোমরের নিচের অংশে অবিরাম ব্যথা
  • উভয় পায়ে অসাড়তা
  • কয়েক মিনিটের বেশি সময় ধরে হাঁটার ক্ষেত্রে অসুবিধা
  • শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা

এটি আমার কাজ এবং আত্মবিশ্বাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি অতি সাধারণ কাজগুলো করাও আমার জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ডাঃ রাজীব আনন্দের সাথে আপনার প্রাথমিক আলাপচারিতা ও পরামর্শ গ্রহণ কেমন ছিল?

একেবারে প্রথম পরামর্শের সময় থেকেই আমি বেশ আশ্বস্ত বোধ করেছিলাম। ডাঃ আনন্দ ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ধৈর্যশীল এবং মনোযোগী। তিনি আমার চিকিৎসার ইতিহাস অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনেছিলেন এবং আমার উপসর্গগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্ন করেছিলেন।

চিকিৎসক কি আপনার শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার বিভিন্ন বিকল্পগুলো এমনভাবে বুঝিয়ে বলেছিলেন, যা আপনি সহজেই বুঝতে পেরেছিলেন?

হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি সবকিছুই অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় ব্যাখ্যা করেছিলেন। এমনকি আমার মেরুদণ্ডে ঠিক কী ঘটছে, তা বোঝানোর জন্য তিনি বিভিন্ন চিত্র বা ডায়াগ্রামও ব্যবহার করেছিলেন। এর ফলে আমার শারীরিক অবস্থাটি বোঝা এবং তাঁর প্রস্তাবিত চিকিৎসার ওপর আস্থা রাখা আমার জন্য অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল।

আপনার মেরুদণ্ড-সংক্রান্ত সমস্যার জন্য কোন চিকিৎসা বা পদ্ধতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল?

আমার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করার পর, ডা. রাজীব আনন্দ একটি 'মিনিম্যালি ইনভেসিভ স্পাইনাল ডিকম্প্রেশন' অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে আমার মেরুদণ্ডের ওপর থেকে চাপ লাঘব হবে এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা মিলবে।

চিকিৎসা চলাকালীন এবং হাসপাতালে অবস্থানকালে আপনার সামগ্রিক অভিজ্ঞতাটি কি বর্ণনা করতে পারবেন?

হাসপাতালে আমার অভিজ্ঞতাটি ছিল চমৎকার। হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধাগুলো ছিল পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল এবং কর্মীরা ছিলেন অত্যন্ত সহযোগিতামূলক। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে ছাড়পত্র পাওয়া পর্যন্ত—সবকিছুই ছিল অত্যন্ত মসৃণ ও দক্ষতাপূর্ণ।

হাসপাতালে আমার অবস্থানের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক হলো:

  • বন্ধুত্বপূর্ণ ও সর্বদা সাড়াদানকারী নার্সিং কর্মীদল
  • প্রতিটি ধাপে স্পষ্ট ও স্বচ্ছ যোগাযোগ ব্যবস্থা
  • সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য আরামদায়ক পরিবেশ

চিকিৎসা চলাকালীন পুরো প্রক্রিয়াটিতে আমি কখনোই নিজেকে একা বা বিভ্রান্ত বোধ করিনি।

আপনার চিকিৎসার পুরো যাত্রাপথে চিকিৎসকদের দলটি আপনাকে কীভাবে সহায়তা ও সমর্থন জুগিয়েছে?

আমি যে সমর্থন পেয়েছি, তা ছিল এক কথায় অসাধারণ। চিকিৎসকদের দলটি আমাকে যেসব বিষয়ে সহায়তা করেছে, তা হলো:

  • অস্ত্রোপচারের পূর্বপ্রস্তুতি
  • অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সেবা ও যত্ন
  • নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ফলো-আপ বা পরবর্তী খোঁজখবর নেওয়া

সুস্থ হয়ে ওঠার সুবিধার্থে ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার বিষয়েও তাঁরা আমাকে সঠিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁদের উৎসাহ আমাকে সর্বদা অনুপ্রাণিত রেখেছে।

চিকিৎসার পর আপনার সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি কেমন ছিল?

সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি ছিল ধীরস্থির, তবে ধারাবাহিক। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আমি ব্যথার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে অনুভব করতে পারছিলাম। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমার চলাফেরার সক্ষমতা বা সচলতা আরও উন্নত হয়।

আমি চিকিৎসকের দেওয়া সমস্ত নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেছি—যার মধ্যে ফিজিওথেরাপিও অন্তর্ভুক্ত ছিল; আর আমার সুস্থ হয়ে ওঠার পেছনে এই বিষয়টির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারটির পর আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন আপনি লক্ষ্য করেছেন?

আমার স্বাস্থ্যের যে উন্নতি হয়েছে, তা আমার জীবনকেই আমূল বদলে দিয়েছে:

  • শরীরের ব্যথা প্রায় পুরোপুরি দূর হয়ে গেছে
  • আমি এখন কারো সাহায্য ছাড়াই হাঁটতে পারি
  • আমার শরীরের ভারসাম্য বা ব্যালেন্সের বেশ উন্নতি হয়েছে
  • আমি এখন নিজেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও কর্মচঞ্চল অনুভব করি
  • আমার মনে হচ্ছে, আমি যেন আমার হারিয়ে যাওয়া জীবনকেই ফিরে পেয়েছি।

ফিজি থেকে আসা অন্য রোগীদের জন্য আপনি কি ডা. রাজীব আনন্দকে সুপারিশ করবেন?

কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলব—হ্যাঁ, অবশ্যই করব। মেরুদণ্ড-সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন এমন যেকোনো ব্যক্তিকে আমি অত্যন্ত জোরালোভাবে তাঁর কাছে যাওয়ার সুপারিশ করব। তাঁর অসামান্য দক্ষতা এবং সেই সাথে চিকিৎসকদের দলটির দেওয়া আন্তরিক সেবা—সবকিছু মিলিয়েই আমার চিকিৎসার ফলাফলটি এত চমৎকার হয়েছে।